বিক্রির বার্ষিক লক্ষ্য ছাড়িয়ে যেতে পারে চীনের শীর্ষ বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) নির্মাতা বিওয়াইডি। এক্ষেত্রে ফোর্ড ও হোন্ডার মতো কোম্পানিগুলোকেও পেছনে ফেলতে পারে কোম্পানিটি। গতকাল প্রকাশিত বিওয়াইডির নভেম্বরের আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর দ্য স্ট্রেইটস টাইমস।
প্রতিবেদনে বিওয়াইডির গাড়ির বাজার আরো হিস্যা অর্জন করতে পারে বলে ইঙ্গিত দেয়া হয়। এতে বলা হয়, কোম্পানিটির চলতি বছর ‘অসাধারণ সম্প্রসারণ’ ঘটেছে। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশাল কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে আয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আয়ের ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষ ইভি নির্মাতা টেসলাকেও ছাড়িয়ে গেছে বিওয়াইডি।
চীনের স্থানীয় বাজারে বিওয়াইডির বিক্রি বাড়ছে। ফলে সামগ্রিক বিক্রি বাড়ায় বার্ষিক ৪০ লাখ গাড়ি বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে কোম্পানিটি।
চলতি বছরের প্রথম ১১ মাসে (জানুয়ারি-নভেম্বর) বিওয়াইডি ৩৭ লাখ ৬০ হাজার ইউনিট গাড়ি সরবরাহ করেছে। এর মধ্যে শুধু নভেম্বরেই বিক্রি হয়েছে ৫ লাখ ৬ হাজার ৮০৪ ইউনিট।
মূলত অন্যান্য কোম্পানির তুলনায় বিওয়াইডির বিক্রি বাড়ায় ভূমিকা রেখেছে প্রতিযোগিতামূলক দামে বাজারে আসা মডেল। এর মধ্যে সর্বশেষ প্লাগ-ইন হাইব্রিড প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে চায়না প্যাসেঞ্জার কার অ্যাসোসিয়েশন (সিপিসিএ) নভেম্বরের প্রতিবেদনে বিওয়াইডির বাজার হিস্যা আরো বাড়তে পারে।
অক্টোবর পর্যন্ত সিপিসিএর তথ্যানুযায়ী, চীনের গাড়ির বাজারে বিওয়াইডির হিস্যা ছিল ১৬ দশমিক ২, যা ২০২৩ সালের ১২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বেশি।
এসএআইসি ও এফএডব্লিউ গ্রুপের সঙ্গে ফক্সওয়াগনের দুটি যৌথ উদ্যোগ জানুয়ারি-অক্টোবর সময়কালে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ বাজার হিস্যা ধরে রেখেছে। তবে গত বছর এর পরিমাণ ছিল ১৪ দশমিক ২ শতাংশ।
বিক্রির এ গতি অব্যাহত থাকলে বিওয়াইডি আগামী ১২ মাসে ৬০ লাখের বেশি গাড়ি বিক্রি করতে পারে। এটি বিওয়াইডিকে জেনারেল মোটরস ও স্টেলান্টিসের মতো শীর্ষ গাড়ি নির্মাতাদের সমান পর্যায়ে নিয়ে যাবে।
চীনা কোম্পানিটি ২০২৫ সালে ৫০-৬০ লাখ গাড়ি সরবরাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বাজার গবেষণা সংস্থা সিটি গ্রুপের বিশ্লেষকরা সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর তাদের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
এ বছরের আগস্ট-অক্টোবর সময়কালে বিওয়াইডি প্রায় দুই লাখ ইউনিট উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়েছে। এছাড়া গাড়ি ও যন্ত্রাংশ নির্মাণ বিভাগে দুই লাখ নতুন কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে বলে কোম্পানির এক নির্বাহী কর্মকর্তা জানান।
২০২৩ সালের শেষ পর্যন্ত প্রায় ৭ লাখ ৩ হাজার ৫০০ কর্মী ছিল বিওয়াইডিতে। তবে সেপ্টেম্বরে এ সংখ্যা প্রায় ১০ লাখে পৌঁছেছে।
সক্ষমতা বাড়াতে বিওয়াইডির প্রচেষ্টার কারণে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। এছাড়া খরচ নিয়ন্ত্রণ ও চীনে চলমান বাড়তি দামের যুদ্ধের সময়েও সাফল্য এনে দিয়েছে। দামের এ যুদ্ধে অনেক বিদেশী গাড়ি নির্মাতাকে চাপে ফেলেছে।
সম্প্রতি চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বিওয়াইডি তাদের কয়েক ডজন সরবরাহকারীকে দাম কমানোর অনুরোধ জানিয়েছে।
জেনারেল মোটরস (জিএম) গত সপ্তাহে জানিয়েছে, চীনে তাদের যৌথ উদ্যোগে পুনর্গঠন ও বিক্রি কমে যাওয়ায় দাম কমিয়ে দিয়েছে তারা। এতে প্রায় ৫০০ কোটি ডলারের বেশি ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়েছে।
অবশ্য বিশ্ব বাজার বিওয়াইডির জন্য ক্রমে চাপের মুখে পড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন বাজারে শুল্ক বাধার কারণে কোম্পানিটির সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।